নিয়ম বহির্ভূত ভাবে থার্ড ক্লাস নিয়েও শূন্য পদে পদন্নোতি পেলেন জামাতের রোকন ছায়েদ আহমেদ মজুমদার

 



ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯  সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রধান সমন্বয়ক ড.কামাল আবদুল  নাছের চৌধুরীর সুপারিশে জামাতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ তাহেরের ঘনিষ্ট কর্মী ও জামাতের রোকন ছায়েদ আহম্মেদ মজুদারের চাকুরী হয়৷ দেশের সরকারী কোনো প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেনী গ্রহণযোগ্য না হলেও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে তৃতীয় শ্রেনী প্রাপ্ত ব্যক্তি চাকুরী এবং পরে শূন্য পদে প্রমোশন হয় তা রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে।

৫ আগষ্ট পরবর্তী পট পরিবর্তনের পরে  জামাত সমর্থিত ভিসি নিয়োগ পাওয়ায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ সম্পাদক মুহুর্তেই বনে যান জামাতের রোকন৷ জামাতের প্রভাব খাটিয়ে ভিসির আশির্বাদে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে একাডেমিক রেজাল্টে থার্ড ক্লাস থাকার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ব্যক্তি কম্পিউটার অপারেটর থেকে সেকশন অফিসার হিসেবে পদোন্নতি ভাগিয়ে নেন, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন যা খুশি করেছে এই কর্মকর্তা। জামাত প্রশাসনের ১৮ মাসে অধিভুক্ত নবায়ন, তদন্ত, ও পাঠদানে প্রায় ৩০ টি প্রতিষ্ঠান ভিজিট করে, অন্য দিকে এমনও কর্মকর্তা আছে একই সময়ে ১ টির বেশি ভিজিট পায়নি। তেমনি নিজ ইচ্ছে মত ফাজিল কামিল পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষা কেন্দ্র ভিজিট করতেন কোনো রকম চিঠি ছাড়া৷ অনার্স পরীক্ষায় কর্মকর্তাদের ভিজিটের কোন অনুমতি না থাকলেও ছায়েদ আহমেদ মজুমদার ফেনী আলিয়া মাদ্রাসায় ভিজিট করে একজন ছাত্র কে বহিষ্কার করেন৷ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান মাদ্রাসায়  ভিজিটের নামে এসে অর্থনৈতিক সুবিধা চাইলে সুবিধা না পেয়ে আমাদের ছাত্রকে বহিষ্কার করে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন কর্মকর্তা,কর্মচারী ও জামাতপন্থী এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সমস্ত একাডেমিক রেজাল্ট ভালো থাকার পরেও আমরা কোন কারনে এতো গুলো কর্মকর্তা শূন্যপদে পদন্নোতি পেলাম না? অথচ থার্ড ক্লাস থাকার পরেও অনিয়ম ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে যে শূন্য পদে পদন্নোতি পেয়েছে আমরা এর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই৷  এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমেদ মোমতাজির নিকট জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ভাইস চ্যান্সেলর আবু জাফর খান বলেন নিয়মের বাহিরে হলে অবশ্যই আমরা তদন্ত করে যা সঠিকের ভিতরে হবে সেটাই করবো। 

শূন্য পদের নিয়োগের এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর থেকে সেকশন অফিসার পদে পদন্নোতি পাওয়া এবং সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

أحدث أقدم