৯ম টেস্ট সেঞ্চুরি করে শান্তর বিদায়

 ৯ম টেস্ট সেঞ্চুরি করে শান্তর বিদায়, ২শ’ পেরিয়ে চা বিরতিতে বাংলাদেশ

 

 

ঢাকা টেস্টে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। মিরপুরে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি পেসারদের তোপে প্রথম ঘণ্টাতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই ধাক্কা সামলে দাঁড়িয়ে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। তাদের ধৈর্য আর দৃঢ়তায় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

দলীয় ১৮ রানেই প্রথম আঘাত হানে পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাদমান ইসলামও। হাসান আলীর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে তখন চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

সেই কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শান্ত ও মুমিনুল। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন দুজনই। মুমিনুল ছিলেন স্বভাবসুলভ শান্ত ও ধৈর্যশীল, আর শান্ত ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক রূপ নেন। তাদের জুটিতে ৭০ বলেই আসে ৫০ রান।

লাঞ্চের পর পাকিস্তানি বোলাররা চাপ তৈরির চেষ্টা করলেও উইকেটের দেখা পায়নি। বরং জুটি আরও জমাট বাঁধে। ৩৫তম ওভারে শাহিন আফ্রিদিকে চার মেরে শতরানের জুটি পূর্ণ করেন শান্ত। এরপর দুজন মিলে গড়েন ১৩৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড।

ব্যক্তিগত মাইলফলকও স্পর্শ করেন দুজন। ১০২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মুমিনুল হক, আর শান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৭১ বলে। এরপর আরও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১২৯ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম শতক।

তবে সেঞ্চুরির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শতক পূরণের পরের ওভারেই আব্বাসের বলে আউট হয়ে থামেন শান্ত। ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনি হাঁকান ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। তার বিদায়ের আগে পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ।

 

Previous Post Next Post