
ভারতের মুম্বাইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, তরমুজ খাওয়ার পর খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ফরেনসিক তদন্তে জানা গেছে, তরমুজে থাকা ইঁদুর মারার বিষই ছিল মৃত্যুর আসল কারণ।
নিহতরা হলেন আবদুল্লাহ দোখাদিয়া, তার স্ত্রী নাসরিন এবং দুই মেয়ে—১৬ বছরের আয়েশা ও ১৩ বছরের জয়নাব। ঘটনার রাতে তারা নিজেদের বাসায় আত্মীয়স্বজনদের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। অতিথিদের মাটন পোলাও খাওয়ানোর পর গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান।
রাত গড়াতেই শুরু হয় বিপর্যয়। ভোরের মধ্যে চারজনই তীব্র বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ময়নাতদন্তে নিহতদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজাভ আভা দেখতে পান চিকিৎসকরা, যা বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষায় তাদের দেহ ও খাওয়া তরমুজের নমুনায় জিঙ্ক ফসফাইটের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এটি ইঁদুর মারার বিষে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে এই বিষ তরমুজে গেল। এটি দুর্ঘটনাবশত মিশেছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেদিনের নৈশভোজে উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্যও নিয়েছে পুলিশ। তারা একই খাবার খেলেও সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন, যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।