পোশাক ধার করে, স্কুটারে চড়ে শুটিং —মাধুরীর অজানা সংগ্রাম

১৭ দিনের শুটিংয়ের পেছনের অজানা গল্পে মাধুরী দীক্ষিত


বলিউডের আজকেরধক ধক গার্লমাধুরী দীক্ষিত একসময় ক্যারিয়ারের শুরুতে ভয়াবহ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন কথা অনেকেরই অজানা। ১৯৮৪ সালে অবোধ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখলেও প্রথমদিকে একের পর এক ব্যর্থ সিনেমার মুখ দেখতে হয়েছিল তাকে। তবে কঠিন সেই সময়েই ধৈর্য আর পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা শেখর  সুমন তুলে ধরেছেন মাধুরীর জীবনের সেই অজানা সংগ্রামের গল্প। তিনি জানান, সংকর সিনেমায় কাজ করার পর একটি নতুন ছবির প্রস্তাব পান তিনি। প্রযোজক সারভান সিং রাহুল তাকে জানান, ছবির নায়িকা হিসেবে থাকছেন নতুন মুখ মাধুরী দীক্ষিত।

প্রথম দেখাতেই মাধুরীর সৌন্দর্য ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে ছবিতে কাজ করতে রাজি হয়ে যান শেখর সুমন। তবে সিনেমাটির বাজেট ছিল এতটাই কম যে, শুটিংয়ের জন্য আলাদা লোকেশন পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি প্রযোজক অনুরোধ করেছিলেন, শেখরের নিজের বাড়িতেই যেন শুটিং করা হয়।

শুধু তাই নয়, সে সময় মাধুরীর আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না। প্রতিদিন শুটিংয়ে আসার মতো ট্যাক্সিভাড়াও তার কাছে থাকত না। তাই শেখর সুমন নিজেই স্কুটারে করে তাকে বাড়ি থেকে শুটিং সেটে নিয়ে আসতেন এবং কাজ শেষে পৌঁছে দিতেন বাড়িতে।

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল, সিনেমাটির জন্য আলাদা মেকআপ আর্টিস্ট বা কস্টিউম ডিজাইনার রাখার সামর্থ্যও ছিল না প্রযোজকদের। ফলে শেখর সুমনের স্ত্রী অলকা নিজেই মাধুরীর মেকআপ করতেন। এমনকি ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্যে অলকার ব্যক্তিগত পোশাক ধার করেই অভিনয় করতে হয়েছিল মাধুরীকে।

সংগ্রামের সেই দিনগুলো পেরিয়েই পরে বলিউডের অন্যতম সফল জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন মাধুরী দীক্ষিত। আজ তার ঝলমলে সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে অসংখ্য ত্যাগ, কষ্ট আর লড়াইয়ের গল্প।

 

Previous Post Next Post