আবারও বাড়ল পেঁয়াজ-আলুর দাম, সবজিতে মিলছে কিছুটা স্বস্তি

 

কমেছে সবজির দাম, চাল-মুরগি-মাছ আগের মতোই চড়া | Banijjo Barta

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 
সরবরাহে তেমন কোনো ঘাটতি না থাকলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। একই সঙ্গে চাল, ডাল ও মাংসের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এর বিপরীতে মৌসুমি সবজি, ডিম ও কয়েক ধরনের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মিরপুর, মানিকদি, মাটিকাটাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। একইভাবে নতুন ও পুরোনো আলুর দাম বেড়ে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, যেখানে গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা।

মাটিকাটা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রিয়াদুল আলম বলেন, “সরবরাহ ঠিক থাকলেও কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ানো হয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহেই কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।”

পল্লবীর বউবাজারের মুদি ব্যবসায়ী শোহরাব জানান, পাইকারি বাজার থেকেই বাড়তি দামে পেঁয়াজ ও আলু কিনতে হচ্ছে। তবে দাম বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ তাদের কাছেও স্পষ্ট নয়।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মিনিকেট চালের কেজি মানভেদে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা, বিআর-২৮ ও পাইজাম ৫৬ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা কেজি দরে।

ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মোটা মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১০৫ টাকা, মাঝারি ১২০ টাকা এবং সরু দানার মসুর ডাল ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, কোথাও কোথাও ৮৫০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ থেকে ১৮৫ টাকা কেজি হলেও সোনালি মুরগির দাম প্রায় ৪০ টাকা কমে ৩৪০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। খামারের লাল ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে লাল ডিমের দাম ছিল প্রায় ১৩০ টাকা।

অন্যদিকে মৌসুমি সবজির বাজারে দাম কমেছে বেশ কয়েকটি পণ্যের। কাঁকরোল, পটোল, ঢেঁড়স, কাঁচা পেঁপে, শসাসহ বেশিরভাগ সবজি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। একই দামে লাউ ও চালকুমড়াও বিক্রি হচ্ছে।

মানিকদি বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হাকিম বলেন, “বর্তমানে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো। তাই বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে শুক্রবার হওয়ায় তাজা সবজির দাম অন্যান্য দিনের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি থাকে।”

বর্তমানে দেশি শসা ৫০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং ঝিঙা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন ও কাঁচামরিচের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচামরিচ বর্তমানে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল প্রায় ১২০ টাকা।

মাছের বাজারে কিছুটা স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। দুই কেজি ওজনের রুই মাছ ৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা। ডিমযুক্ত রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১৩০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে টেংরা মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া চাষের পাবদা ৪০০ টাকা, দেশি পাবদা ৫০০ টাকা, চাষের কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ টাকা এবং সিলভার কার্প ও সরপুটি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Previous Post Next Post