হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১১ হাজার নাবিককে উদ্ধারে বড় অভিযান



মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘ চার মাস ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও) এই মানবিক অভিযানের সমন্বয় করছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের কারণে কৌশলগত এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঝসমুদ্রে আটকা পড়ে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন বিভিন্ন দেশের নাবিকরা। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে তৈরি হয় বড় ধরনের সংকট।

আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বেড়েছে। গত সোমবার একদিনেই অন্তত ৩৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে, যা সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ।

ওমানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটকে পড়া নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে গোপনে আলোচনা চলছিল। এখন ধাপে ধাপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১১ হাজার নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ শুধু একটি মানবিক অভিযান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালিকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

যুদ্ধের ধোঁয়া আর অবরোধের ভয় কাটিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ফের জাহাজ চলাচল শুরু হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।

Previous Post Next Post